অবস্থান/ঠিকানা : টাউন হল, পাবলিক লাইব্রেরী, সদর রংপুর

ধরন : ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা

Map/Get Direction :

১৮৮৫ সালে একটি রঙ্গমঞ্চ বানানোর উদ্যোগ থেকেই গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী রংপুর টাউন হল। সেখানে নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের জন্য রঙ্গপুর নাট্যসমাজ এই উদ্যোগ নিয়েছিল। তাদের এই মহৎ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন কাকিনার রাজা মহিমা রঞ্জন রায়। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে ১৮৯১ সালে রাজা মহিমা রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় ৩৪০ শতক জমি ইংরেজ সরকারের কাছে লিখে দেন।


এরও পাঁচ বছর পর ১৮৯৬ সালে সেক্রেটারি অব স্টেট ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ও রঙ্গপুর নাট্যসমাজের মধ্যে একটি দলিল সম্পাদিত হয়। সেই দলিল অনুযায়ী নাট্যসমাজ জমির মালিকানা লাভের পর প্রথমে এখানে একটি চালাঘর নির্মাণের পর নাট্যচর্চা শুরু হয়।
পরবর্তীতে ঘরটি আগুনে পুড়ে গেলে সময়ের পরিক্রমায় ইট কংক্রিটে প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের এই টাউন হল। সূচনালগ্নে এর নাম ছিল ‘রংপুর নাট্যসমাজ গৃহ’। বাংলা নাট্যচর্চার গৌরবময় ইতিহাসে অনেক পুরোধা ব্যক্তিত্বই রংপুর টাউন হলে রেখে গেছেন তাদের সৃষ্টির স্বাক্ষর। এই রঙ্গমঞ্চেই প্রথম নাটক হিসেবে মঞ্চস্থ হয় মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘শর্মিষ্ঠা’।
এরপর শরৎচন্দ্রের ‘দত্তা’ উপন্যাসের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ হয় রংপুর টাউন হলে, যার নাট্যরূপ দিয়েছিলেন প্রবোধ মুখার্জি। সে সময় প্রাদেশিক কংগ্রেসের এক কনফারেন্স উপলক্ষে রংপুরে এসেছিলেন কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সেদিন স্বল্প সময়ের জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ওই নাটক দেখতে রাজি করানো হয়। নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হওয়া নাটকটি এমনই প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল যে, শরৎচন্দ্র নাটকের শেষ দৃশ্য পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছিলেন।
ওই নাটকে ‘বিলাস বিহারী’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রংপুরের বিখ্যাত কাজী পরিবারের ছেলে কাজী মো. ইলিয়াস।
নেতাজী সুভাষ বসুসহ রংপুর টাউন হলে পদচিহ্ন এঁকেছেন সরোজিনী নাইডু, শরৎ বসু, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকসহ অনেকে। এক কথায় বলা যায়, সুভাষ বসু থেকে শুরু করে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মতো ব্যক্তিত্বের পদচিহ্ন রয়েছে এই টাউন হলে।
১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়ে অবিভক্ত বাংলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নাট্য আন্দোলনের পীঠস্থান হিসেবে বিবেচিত হতো রংপুর টাউন হল। আর সে কারণেই রংপুরের সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এটি এখন পরিচিতি পেয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। মুক্তবুদ্ধি চর্চার সুতিকাগার হিসেবে পরিচিত এই হল থেকেই অনেক ক্ষণজন্মা পুরোধা ব্যক্তিত্ব বাঙালি সংস্কৃতির মুক্তচিন্তার পথ সুগম করেছিলেন।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটি শুধু চিত্তবিনোদন কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রই নয় বরং অনেক বেদনা ও কষ্টের স্মৃতিও মিশে আছে এর রল্প্রেব্দ রল্প্রেব্দ। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই টাউন হলকেই বানিয়েছিল ‘নারী নির্যাতন’ কেন্দ্র। বীরাঙ্গনাদের আর্তচিৎকার আর গুমোট চাপা ধর্ষিতার কান্না ভরা বিভীষিকাময় সেই দিনের স্মৃতিগুলো ধারণ করে এখনও দাঁড়িয়ে আছে ইটপাথরে গড়া এই হলটি।
বর্তমানে এই ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে অবিভক্ত ভারতের প্রাচীন লাইব্রেরিগুলোর একটি, যা রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি নামে পরিচিত।
রংপুর টাউন হল প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪২ বছর আগে ১৮৫৪ সালে লাইব্রেরিটি স্থাপিত হয়েছিল। এর পাশেই রয়েছে স্থপতি তাজউদ্দিন চৌধুরীর ডিজাইনে আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর অপূর্ব নিদর্শন রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
এ ছাড়াও টাউন হলের কোল ঘেঁষে রয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ভবন, নাট্যদলের সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়গুলো। দ্বিতল ভবনের এই হলটি প্রতিদিনই মুখরিত থাকে কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে। তবে সার্বিক বিবেচনায় ঐতিহাসিক এই ভবনটিকে আগামী প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতে নেওয়া হচ্ছে না প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।
রংপুরের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও সারথি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এ প্রসঙ্গে বলেন, নাট্যচর্চায় অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করতে এবং কালের সাক্ষী হিসেবে এই হলটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন সুপরিকল্পনার মধ্য দিয়ে হলটির ব্যাপক সংস্কার এবং আধুনিকীকরণ।
সত্যিই তাই, এতে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে এই হলের ইতিহাস-ঐতিহ্য। আর রংপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ফিরে পাবে এক নতুন মাত্রা।১৮৮৫ সালে একটি রঙ্গমঞ্চ বানানোর উদ্যোগ থেকেই গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী রংপুর টাউন হল। সেখানে নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের জন্য রঙ্গপুর নাট্যসমাজ এই উদ্যোগ নিয়েছিল। তাদের এই মহৎ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন কাকিনার রাজা মহিমা রঞ্জন রায়। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে ১৮৯১ সালে রাজা মহিমা রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় ৩৪০ শতক জমি ইংরেজ সরকারের কাছে লিখে দেন।
এরও পাঁচ বছর পর ১৮৯৬ সালে সেক্রেটারি অব স্টেট ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ও রঙ্গপুর নাট্যসমাজের মধ্যে একটি দলিল সম্পাদিত হয়। সেই দলিল অনুযায়ী নাট্যসমাজ জমির মালিকানা লাভের পর প্রথমে এখানে একটি চালাঘর নির্মাণের পর নাট্যচর্চা শুরু হয়।
পরবর্তীতে ঘরটি আগুনে পুড়ে গেলে সময়ের পরিক্রমায় ইট কংক্রিটে প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের এই টাউন হল। সূচনালগ্নে এর নাম ছিল ‘রংপুর নাট্যসমাজ গৃহ’। বাংলা নাট্যচর্চার গৌরবময় ইতিহাসে অনেক পুরোধা ব্যক্তিত্বই রংপুর টাউন হলে রেখে গেছেন তাদের সৃষ্টির স্বাক্ষর। এই রঙ্গমঞ্চেই প্রথম নাটক হিসেবে মঞ্চস্থ হয় মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘শর্মিষ্ঠা’।
এরপর শরৎচন্দ্রের ‘দত্তা’ উপন্যাসের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ হয় রংপুর টাউন হলে, যার নাট্যরূপ দিয়েছিলেন প্রবোধ মুখার্জি। সে সময় প্রাদেশিক কংগ্রেসের এক কনফারেন্স উপলক্ষে রংপুরে এসেছিলেন কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সেদিন স্বল্প সময়ের জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ওই নাটক দেখতে রাজি করানো হয়। নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হওয়া নাটকটি এমনই প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল যে, শরৎচন্দ্র নাটকের শেষ দৃশ্য পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছিলেন।
ওই নাটকে ‘বিলাস বিহারী’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রংপুরের বিখ্যাত কাজী পরিবারের ছেলে কাজী মো. ইলিয়াস।
নেতাজী সুভাষ বসুসহ রংপুর টাউন হলে পদচিহ্ন এঁকেছেন সরোজিনী নাইডু, শরৎ বসু, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকসহ অনেকে। এক কথায় বলা যায়, সুভাষ বসু থেকে শুরু করে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মতো ব্যক্তিত্বের পদচিহ্ন রয়েছে এই টাউন হলে।
১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়ে অবিভক্ত বাংলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নাট্য আন্দোলনের পীঠস্থান হিসেবে বিবেচিত হতো রংপুর টাউন হল। আর সে কারণেই রংপুরের সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এটি এখন পরিচিতি পেয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। মুক্তবুদ্ধি চর্চার সুতিকাগার হিসেবে পরিচিত এই হল থেকেই অনেক ক্ষণজন্মা পুরোধা ব্যক্তিত্ব বাঙালি সংস্কৃতির মুক্তচিন্তার পথ সুগম করেছিলেন।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটি শুধু চিত্তবিনোদন কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রই নয় বরং অনেক বেদনা ও কষ্টের স্মৃতিও মিশে আছে এর রল্প্রেব্দ রল্প্রেব্দ। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই টাউন হলকেই বানিয়েছিল ‘নারী নির্যাতন’ কেন্দ্র। বীরাঙ্গনাদের আর্তচিৎকার আর গুমোট চাপা ধর্ষিতার কান্না ভরা বিভীষিকাময় সেই দিনের স্মৃতিগুলো ধারণ করে এখনও দাঁড়িয়ে আছে ইটপাথরে গড়া এই হলটি।
বর্তমানে এই ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে অবিভক্ত ভারতের প্রাচীন লাইব্রেরিগুলোর একটি, যা রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি নামে পরিচিত।
রংপুর টাউন হল প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪২ বছর আগে ১৮৫৪ সালে লাইব্রেরিটি স্থাপিত হয়েছিল। এর পাশেই রয়েছে স্থপতি তাজউদ্দিন চৌধুরীর ডিজাইনে আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর অপূর্ব নিদর্শন রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
এ ছাড়াও টাউন হলের কোল ঘেঁষে রয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ভবন, নাট্যদলের সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়গুলো। দ্বিতল ভবনের এই হলটি প্রতিদিনই মুখরিত থাকে কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে। তবে সার্বিক বিবেচনায় ঐতিহাসিক এই ভবনটিকে আগামী প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতে নেওয়া হচ্ছে না প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।
রংপুরের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও সারথি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এ প্রসঙ্গে বলেন, নাট্যচর্চায় অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করতে এবং কালের সাক্ষী হিসেবে এই হলটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন সুপরিকল্পনার মধ্য দিয়ে হলটির ব্যাপক সংস্কার এবং আধুনিকীকরণ।
সত্যিই তাই, এতে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে এই হলের ইতিহাস-ঐতিহ্য। আর রংপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ফিরে পাবে এক নতুন মাত্রা।১৮৮৫ সালে একটি রঙ্গমঞ্চ বানানোর উদ্যোগ থেকেই গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী রংপুর টাউন হল। সেখানে নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের জন্য রঙ্গপুর নাট্যসমাজ এই উদ্যোগ নিয়েছিল। তাদের এই মহৎ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন কাকিনার রাজা মহিমা রঞ্জন রায়। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে ১৮৯১ সালে রাজা মহিমা রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় ৩৪০ শতক জমি ইংরেজ সরকারের কাছে লিখে দেন।
এরও পাঁচ বছর পর ১৮৯৬ সালে সেক্রেটারি অব স্টেট ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ও রঙ্গপুর নাট্যসমাজের মধ্যে একটি দলিল সম্পাদিত হয়। সেই দলিল অনুযায়ী নাট্যসমাজ জমির মালিকানা লাভের পর প্রথমে এখানে একটি চালাঘর নির্মাণের পর নাট্যচর্চা শুরু হয়।
পরবর্তীতে ঘরটি আগুনে পুড়ে গেলে সময়ের পরিক্রমায় ইট কংক্রিটে প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের এই টাউন হল। সূচনালগ্নে এর নাম ছিল ‘রংপুর নাট্যসমাজ গৃহ’। বাংলা নাট্যচর্চার গৌরবময় ইতিহাসে অনেক পুরোধা ব্যক্তিত্বই রংপুর টাউন হলে রেখে গেছেন তাদের সৃষ্টির স্বাক্ষর। এই রঙ্গমঞ্চেই প্রথম নাটক হিসেবে মঞ্চস্থ হয় মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘শর্মিষ্ঠা’।
এরপর শরৎচন্দ্রের ‘দত্তা’ উপন্যাসের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ হয় রংপুর টাউন হলে, যার নাট্যরূপ দিয়েছিলেন প্রবোধ মুখার্জি। সে সময় প্রাদেশিক কংগ্রেসের এক কনফারেন্স উপলক্ষে রংপুরে এসেছিলেন কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সেদিন স্বল্প সময়ের জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ওই নাটক দেখতে রাজি করানো হয়। নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হওয়া নাটকটি এমনই প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল যে, শরৎচন্দ্র নাটকের শেষ দৃশ্য পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছিলেন।
ওই নাটকে ‘বিলাস বিহারী’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রংপুরের বিখ্যাত কাজী পরিবারের ছেলে কাজী মো. ইলিয়াস।
নেতাজী সুভাষ বসুসহ রংপুর টাউন হলে পদচিহ্ন এঁকেছেন সরোজিনী নাইডু, শরৎ বসু, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকসহ অনেকে। এক কথায় বলা যায়, সুভাষ বসু থেকে শুরু করে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মতো ব্যক্তিত্বের পদচিহ্ন রয়েছে এই টাউন হলে।
১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়ে অবিভক্ত বাংলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নাট্য আন্দোলনের পীঠস্থান হিসেবে বিবেচিত হতো রংপুর টাউন হল। আর সে কারণেই রংপুরের সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এটি এখন পরিচিতি পেয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। মুক্তবুদ্ধি চর্চার সুতিকাগার হিসেবে পরিচিত এই হল থেকেই অনেক ক্ষণজন্মা পুরোধা ব্যক্তিত্ব বাঙালি সংস্কৃতির মুক্তচিন্তার পথ সুগম করেছিলেন।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটি শুধু চিত্তবিনোদন কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রই নয় বরং অনেক বেদনা ও কষ্টের স্মৃতিও মিশে আছে এর রল্প্রেব্দ রল্প্রেব্দ। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই টাউন হলকেই বানিয়েছিল ‘নারী নির্যাতন’ কেন্দ্র। বীরাঙ্গনাদের আর্তচিৎকার আর গুমোট চাপা ধর্ষিতার কান্না ভরা বিভীষিকাময় সেই দিনের স্মৃতিগুলো ধারণ করে এখনও দাঁড়িয়ে আছে ইটপাথরে গড়া এই হলটি।
বর্তমানে এই ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে অবিভক্ত ভারতের প্রাচীন লাইব্রেরিগুলোর একটি, যা রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি নামে পরিচিত।
রংপুর টাউন হল প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪২ বছর আগে ১৮৫৪ সালে লাইব্রেরিটি স্থাপিত হয়েছিল। এর পাশেই রয়েছে স্থপতি তাজউদ্দিন চৌধুরীর ডিজাইনে আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর অপূর্ব নিদর্শন রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
এ ছাড়াও টাউন হলের কোল ঘেঁষে রয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ভবন, নাট্যদলের সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়গুলো। দ্বিতল ভবনের এই হলটি প্রতিদিনই মুখরিত থাকে কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে। তবে সার্বিক বিবেচনায় ঐতিহাসিক এই ভবনটিকে আগামী প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতে নেওয়া হচ্ছে না প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।
রংপুরের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও সারথি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এ প্রসঙ্গে বলেন, নাট্যচর্চায় অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করতে এবং কালের সাক্ষী হিসেবে এই হলটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন সুপরিকল্পনার মধ্য দিয়ে হলটির ব্যাপক সংস্কার এবং আধুনিকীকরণ।
সত্যিই তাই, এতে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে এই হলের ইতিহাস-ঐতিহ্য। আর রংপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ফিরে পাবে এক নতুন মাত্রা।১৮৮৫ সালে একটি রঙ্গমঞ্চ বানানোর উদ্যোগ থেকেই গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী রংপুর টাউন হল। সেখানে নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের জন্য রঙ্গপুর নাট্যসমাজ এই উদ্যোগ নিয়েছিল। তাদের এই মহৎ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন কাকিনার রাজা মহিমা রঞ্জন রায়। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে ১৮৯১ সালে রাজা মহিমা রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় ৩৪০ শতক জমি ইংরেজ সরকারের কাছে লিখে দেন।
এরও পাঁচ বছর পর ১৮৯৬ সালে সেক্রেটারি অব স্টেট ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ও রঙ্গপুর নাট্যসমাজের মধ্যে একটি দলিল সম্পাদিত হয়। সেই দলিল অনুযায়ী নাট্যসমাজ জমির মালিকানা লাভের পর প্রথমে এখানে একটি চালাঘর নির্মাণের পর নাট্যচর্চা শুরু হয়।
পরবর্তীতে ঘরটি আগুনে পুড়ে গেলে সময়ের পরিক্রমায় ইট কংক্রিটে প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের এই টাউন হল। সূচনালগ্নে এর নাম ছিল ‘রংপুর নাট্যসমাজ গৃহ’। বাংলা নাট্যচর্চার গৌরবময় ইতিহাসে অনেক পুরোধা ব্যক্তিত্বই রংপুর টাউন হলে রেখে গেছেন তাদের সৃষ্টির স্বাক্ষর। এই রঙ্গমঞ্চেই প্রথম নাটক হিসেবে মঞ্চস্থ হয় মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘শর্মিষ্ঠা’।
এরপর শরৎচন্দ্রের ‘দত্তা’ উপন্যাসের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ হয় রংপুর টাউন হলে, যার নাট্যরূপ দিয়েছিলেন প্রবোধ মুখার্জি। সে সময় প্রাদেশিক কংগ্রেসের এক কনফারেন্স উপলক্ষে রংপুরে এসেছিলেন কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সেদিন স্বল্প সময়ের জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ওই নাটক দেখতে রাজি করানো হয়। নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হওয়া নাটকটি এমনই প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল যে, শরৎচন্দ্র নাটকের শেষ দৃশ্য পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছিলেন।
ওই নাটকে ‘বিলাস বিহারী’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রংপুরের বিখ্যাত কাজী পরিবারের ছেলে কাজী মো. ইলিয়াস।
নেতাজী সুভাষ বসুসহ রংপুর টাউন হলে পদচিহ্ন এঁকেছেন সরোজিনী নাইডু, শরৎ বসু, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকসহ অনেকে। এক কথায় বলা যায়, সুভাষ বসু থেকে শুরু করে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মতো ব্যক্তিত্বের পদচিহ্ন রয়েছে এই টাউন হলে।
১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়ে অবিভক্ত বাংলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নাট্য আন্দোলনের পীঠস্থান হিসেবে বিবেচিত হতো রংপুর টাউন হল। আর সে কারণেই রংপুরের সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এটি এখন পরিচিতি পেয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। মুক্তবুদ্ধি চর্চার সুতিকাগার হিসেবে পরিচিত এই হল থেকেই অনেক ক্ষণজন্মা পুরোধা ব্যক্তিত্ব বাঙালি সংস্কৃতির মুক্তচিন্তার পথ সুগম করেছিলেন।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটি শুধু চিত্তবিনোদন কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রই নয় বরং অনেক বেদনা ও কষ্টের স্মৃতিও মিশে আছে এর রল্প্রেব্দ রল্প্রেব্দ। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই টাউন হলকেই বানিয়েছিল ‘নারী নির্যাতন’ কেন্দ্র। বীরাঙ্গনাদের আর্তচিৎকার আর গুমোট চাপা ধর্ষিতার কান্না ভরা বিভীষিকাময় সেই দিনের স্মৃতিগুলো ধারণ করে এখনও দাঁড়িয়ে আছে ইটপাথরে গড়া এই হলটি।
বর্তমানে এই ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে অবিভক্ত ভারতের প্রাচীন লাইব্রেরিগুলোর একটি, যা রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি নামে পরিচিত।
রংপুর টাউন হল প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪২ বছর আগে ১৮৫৪ সালে লাইব্রেরিটি স্থাপিত হয়েছিল। এর পাশেই রয়েছে স্থপতি তাজউদ্দিন চৌধুরীর ডিজাইনে আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর অপূর্ব নিদর্শন রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
এ ছাড়াও টাউন হলের কোল ঘেঁষে রয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ভবন, নাট্যদলের সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়গুলো। দ্বিতল ভবনের এই হলটি প্রতিদিনই মুখরিত থাকে কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে। তবে সার্বিক বিবেচনায় ঐতিহাসিক এই ভবনটিকে আগামী প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতে নেওয়া হচ্ছে না প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।
রংপুরের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও সারথি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এ প্রসঙ্গে বলেন, নাট্যচর্চায় অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করতে এবং কালের সাক্ষী হিসেবে এই হলটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন সুপরিকল্পনার মধ্য দিয়ে হলটির ব্যাপক সংস্কার এবং আধুনিকীকরণ।
সত্যিই তাই, এতে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে এই হলের ইতিহাস-ঐতিহ্য। আর রংপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ফিরে পাবে এক নতুন মাত্রা।

One thought on “টাউন হল, রংপুর | Town Hall, Rangpur”

Leave a Reply

Your email address will not be published.