অবস্থান/ঠিকানা : কাচারি বাজার রোড(ডিসির মোড়), রংপুর
স্থানাঙ্ক : ২৫.৭৫৭৪১১° উত্তর ৮৯.২৪২৮৫২° পূর্ব
ধরন : সরকারি স্কুল
প্রতিষ্ঠাকাল : ১৮৩২
বিদ্যালয় বোর্ড : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর
সেশন : জানুয়ারি–ডিসেম্বর
শ্রেণী : ৩য়–১০ম
লিঙ্গ : ছেলে
বয়স : ০৭ -১৭ পর্যন্ত
শিক্ষার্থী সংখ্যা : ১৮০০
ভাষার : মাধ্যম বাংলা
ক্যাম্পাসের আকার : ১৫.৬৬ একর
রঙ : রং: খাঁকী এবং সাদা
প্রাক্তন শিক্ষার্থী : ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকী, নাট্যকার, কবি, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক আনিসুল হক,পরমাণুবিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা, সেনাপ্রধান জেনারেল মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান (বীরবিক্রম),লেফটেনেন্ট জেনারেল মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (আর্মি চীফ অব স্টাফ)
EIIN : ১২৭৩৭২
ওয়েবসাইট : www.rangpurzillaschool.edu.bd

ইতিহাস

১৮২৮ সালের জনশ্রুতি অনুযায়ী ১৮২৫ সালে রংপুর জিলা স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৮৩২ সালে অখণ্ড বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক জমিদার স্কুল’ নামে এ বিদ্যালয়েরভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। শুরুতে এই স্কুলের কার্যক্রম পরিচালিত হয় খড়ের তৈরি একটি আটচালা ঘরে (বর্তমান মূল ভবনের উত্তর-পূর্বে পুরাতন ইঁদারার কাছাকাছি এটি ছিল)। এই স্কুল সমগ্র ভারতবর্ষের অন্যতম প্রাচীন স্কুল।

জমিদার স্কুল তথা রংপুর জিলা স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন বাবু কৃষ্ণকুমার সেন। এটি উত্তরবঙ্গের প্রথম স্কুল এবং শুরু থেকেই এখানে সমগ্র উত্তরবঙ্গ—বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, কুচবিহার, জলপাইগুড়ি থেকে ছাত্ররা শিক্ষার্জনের জন্য আসতে থাকে। আর ক্রমশই সুনাম ছড়াতে থাকে ‘জমিদার স্কুলের’। ১৮৫৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর স্কুলটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত এবং প্রাদেশিক সরকারের প্রত্যক্ষ অনুদান প্রাপ্ত হয়।

১৮২৩ সালে গভর্নর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক এর পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের জন্য প্রতিটি জেলায় ‘জেলা স্কুল’ প্রতিষ্ঠার নীতি এবং ১৮৩৫ সালের শিক্ষানীতির (এতে ইংরেজি ভাষা, সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, আইন সর্বোপরি পাশ্চাত্যশিক্ষা প্রদানের সুপারিশ করা হয়) আওতায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসিত ব্রিটিশ ভারতের প্রাদেশিক সরকারের শিক্ষাবিভাগ ১৮৬২ সালে রংপুরের বিখ্যাত ‘জমিদার স্কুল’ রংপুর জেলার ‘জেলা স্কুলে’ রূপান্তরিত করে এবং এর পরিবর্তিত নাম হয় ‘রংপুর জিলা স্কুল’। সেসময়ে স্কুলটি ২,৬১৬ রুপি বার্ষিক অনুদান পেত। উল্লেখ্য যে ‘জেলা’ বা ‘জিলা’ শব্দটিআরবি শব্দ ‘জিলা’ (ضلع) হতে আগত যেটি বাংলায় ‘জেলা’তে রূপান্তরিত। শব্দটি মুঘল আমল হতেই ‘প্রশাসনিক বিভাগ’ অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।ইংরেজরাও শব্দটি গ্রহণ করে যেটির ইংরেজি রূপ ‘ZILLA’। অর্থাৎ ‘রংপুর জিলা স্কুল’ এর অর্থ ‘প্রশাসনিক বিভাগ বা জেলা রংপুরের বিদ্যালয়’।

১৮৭৩ সালে রংপুর জিলা স্কুলের ছাত্রসংখ্যা ছিল একশত ষাট জন। এন্ট্রাস পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র চারজন। এন্ট্রাস পরীক্ষায় ঐ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় একজন প্রথম বিভাগ, দুইজন দ্বিতীয় বিভাগ, একজন তৃতীয় বিভাগ প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে রংপুর জিলা স্কুল বৃহত্তর বাংলার প্রায় ৩৪টি স্কুলের মধ্যে ভাল ফলের জন্য ‘দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজ’ (Second Grade College) এর মর্যাদা পায়। সে সময়ের প্রধান শিক্ষক বাবু চন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য অধ্যক্ষ এবং বিখ্যাত পণ্ডিত যাদেশ্বর তর্করত্ন সংস্কৃত বিষয়ের অধ্যাপক হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। নানা কারণে চার বছর পর কলেজের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যা ১৮৮৪ সালে ৩৩৩ জন, ১৮৯৯ সালে ৩৬৭ জন এবং ১৯০১ সালে ৩৮৫ ছিল। এ সময় রংপুর জিলা স্কুল প্রথম শ্রেণির বিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়। ১৯০৪ সালে বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ খোলা হয়।

জমিদারবর্গ শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার জন্য সম্মিলিত ভাবে ‘ভিক্টোরিয়া স্কলারশিপ’ চালু করেন। ১৮৭৪ সালে রংপুরের ফতেহপুর পরগনার (বর্তমান পীরগঞ্জ উপজেলার) জমিদার ধরপৎ সিং তাঁর পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে এবং ছাত্রদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ‘দয়াল সিং রৌপ্য পদক’ চালু করেন। তাঁর মৃত্যুর পর এ ব্যবস্থা চালু রাখেন তাঁর স্ত্রী নিস্তারিণী দেবী। জেলার অন্য জমিদার কালীপ্রসন্ন সেন, দ্বারিকানাথ রায় চৌধুরী, কাকিনার জমিদার (বর্তমান লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত) প্রমুখ মিলে আট টাকা হারে উপবৃত্তি চালু করেন। সে অর্থ সরকারি বৃত্তি-বঞ্চিত দরিদ্র-মেধাবী ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ ছিল।

এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সচিব ছিলেন কুণ্ডীর জমিদার রাজমোহন রায় চৌধুরী (১৭৮৭-১৮৪৭)। তারপর তাঁরই ছোট ভাই কাশীচন্দ্র রায় চৌধুরী ও কালিচন্দ্র রায় চৌধুরী এ দায়িত্ব পালন করেন। ইংরেজির পরিবর্তে বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম করার জন্য পরবর্তী সেক্রেটারি তুষভাণ্ডারের জমিদার রমনী মোহন রায় চৌধুরী (১৮৮০-১৯৮৭) সরকারের নিকট আবেদন করেন। তাঁর আবেদন ও সাংবাদিকদের ব্যাপক লেখালেখির পর আবেদন মঞ্জুর হয়। রংপুর জিলা স্কুল সহ প্রদেশের অনেক স্কুলে বাংলা চালু হয় এবং ‘বাংলা স্টাইপেন্ড স্কুল’ স্থাপনের সূচনা ঘটে। স্কুলের গেট সে সময় পশ্চিমমুখী ছিল ও উত্তর দিকেও একটি গেট ছিল। ষাটের দশকের শেষের দিকে স্কুলটি পাইলট স্কুল ভুক্ত হয় এবং ‘রংপুর জিলা (পাইলট) স্কুল’ হিসাবে চলে।

তথ্য সুএ : Wikipedia and Google .

Leave a Reply

Your email address will not be published.